Posts

2018/ buddha

বুদ্ধ উবাচ  March 18, 2018 বুদ্ধ বলছেন ' ন চাহু ন চ ভবিস্সতি ন চেতরহি বিজ্জতি একন্তং নিন্দিতো পোসো একন্তং বা পসংসিতো । - একান্ত নিন্দিত বা একান্ত প্রশংসিত কোনও পুরুষ অতীতে ছিল না, এখনও নেই, ভবিষ্যতেও হবে না । তিনি তার শিষ্য অতুলকে বলছেন যে পৃথিবীতে অনিন্দিত কেউ নেই । ' কস্মারো রজত স্সেব নিদ্ধবে মলমত্তনো । অনুপুব্বেন মেধাবী থোকথোকং খনে খনে ।" - যেমন কর্মকার রজতের ( আহা , কি দ্যার্থক !!) মল নিষ্কাষণ করে, মেধাবী ( হতে পারছি কই ) তেমনই ক্ষণে ক্ষণে তার মনের মল ক্ষালন করবেন ( একদিন না একদিন পারতেই হবে বন্ধু )। এরপরেই ধর্মপদ যা বলছেন একই কথা মহাভারত ও বলছে । জানিনা কোনটি আগে । কারণ মহাভারত প্রথমে 24 হাজার শ্লোকে রচিত হয় । পরে যা বর্ধিত হয়ে হয়ে 1 লক্ষ হয় । ' অক্কোধেন জিনে কোধং অসাধুং সাধুনা জিনে জিনে কদরিয়ং দানেন সচ্চেন অলিকবাদিনং।। -ধম্মপদ "অক্রোধেন জয়েৎ ক্রোধং অসাধুং সাধুনা জয়েৎ জয়েৎ কদর্যং দানেন জয়েৎ সত্যেন চানৃতং " - উদ্দোগপর্ব, মহাভারত - অক্রোধ দ্বারা ক্রোধকে , সাধুতা দ্বারা অসাধুতাকে , দান দ্বারা কৃপনকে আর সত্য দ্বারা অসত্য কে জয় করবে । এতো কিছু পড়লাম, লিখলাম,...

বাংলা ভাষা

।। সহকর্মী বন্ধু - অগ্রজ সাইরূল বাবুর কথার উত্তরে ।। ( আগ্রহী জনের মতামতের জন্য ) সংস্কৃত কখনও কথ্য ভাষা ছিল না । কথ্য ভাষাগুলিকে ( কাছাকাছি মিল যুক্ত ) সংস্কার করে শিক্ষিতজনের ভাষা, (সংস্কার থেকে সংস্কৃত নাম) রূপে সংস্কৃত চালু হয় । বাংলায় যেমন রামমোহন গদ্য রূপ দিলেন বাংলা ভাষার । তার আগে সমস্ত বাংলা সাহিত্য পদ্যরূপে পাওয়া যায় । অবশ্য পদ্যে লেখাই ভারতীয় সংস্কৃতি । ওনার আগে কি বাঙালি বাংলায় কথা বলতো না ? তখন নানা স্থানীয় variation এ বলতো । কলকাতার শহুরে বাঙালি  'হুতোম ' -এর ভাষায় বলতো । সাধু বাঙলা চর্চা করতে করতে শহুরে বাঙালির মুখের ভাষাও পরিশিলীত হল । এক ঢাকা - কলকাতাইয়া ভাষার জন্ম হল । গ্রাম বাংলার মানুষ কি এ ভাষায় কথা বলে ? মেদিনীপুর, বাঁকুড়া, শিলেট, চট্টগ্রাম, দিনাজপুর এমনকি হুগলি- হাওড়া র ( কলকাতার কাছেই ) গ্রামেও নানা শব্দ, নানা অপভ্রংশ, নানা উচ্চারণ ভঙ্গি চলে । কিন্তু সেই মানুষগুলোই লেখার সময় শহুরে ভাষায় লেখে । বিদেশি কেউ বাংলা literature পড়ে কি বুঝতে পারবে এই বৈচিত্র্য ? এভাবেই 3000 বছর আগেও ভারতে কথ্যরূপ ছিল । পালি, প্রাকৃত, মাগধী ইত্যাদি স্থানভেদে নানা নাম ছিল ।...

তৃষ্ণা

।। তণহা = তৃষ্ণা ।। তণহায় জায়তে সোকো তণহায় জায়তে ভয়ং  - তৃষ্ণা থেকেই শোক এবং তৃষ্ণা থেকেই ভয়ের উৎপত্তি । "" ..তসিনং বিনোদয়ে ভিকখু আকঙখী বিরাগমত্তনো"  - হে ভিক্ষু, স্বীয় মুক্তি আকাঙ্ক্ষা করে তৃষ্ণার অপনোদন করো । " অত্তাহি অত্তনো নাথো " -আপনিই আপনার নাথ । গীতাও বলছে - " উদ্ধারেদাত্মনাত্মানং নাত্মানমবসাদয়েৎ আত্মৈবহ্যাত্মনো বন্ধুরাত্মৈব রিপুরাত্মনঃ" - আপনিই আপনার বন্ধু, আপনিই আপনার শত্রু । তাই আত্মাকে অবসন্ন না করে আত্মা দ্বারাই আত্মাকে উদ্ধার করতে হবে । আর বুদ্ধ এও বলছেন, ' বেরিনেসু অবেরিনো' , 'আতুরেসু অনাতুরা', 'উসসুকেসু অনুসসুকা' অর্থাৎ এসো বৈরী দের মধ্যে অবৈরীভাবে, তৃষাতুরদের মাঝে তৃষ্ণা হীন হয়ে, আসক্তদের মাঝে অনাসক্ত হয়ে বাস করি । আর সঙ্গী না পেলে " চরংচে নাধিগচ্ছেয্য সেয্যং সদিসমত্তনো, একচরিয়ং দলহং ...." -- যদি সদৃশ বা উন্নত সাথী না মেলে তবে দৃঢ়তার সাথে একলা চলো রে ।।

অপ্রমাদ

।। অপ্রমাদ /অপ্পমাদ (সৎকর্মে উৎসাহ )।। বুদ্ধ বলছেন,  "'অপ্পমাদো অমতপদং, পমাদো মচ্চুনো পদং  অপ্পমত্তা ন মীয়ন্তী, যে পমত্তা যথামতা " ।। - ধম্মপদ । - অপ্রমাদ অমৃত লাভের পথ, প্রমাদ হল মৃত্যুর । তুলনীয় 'প্রমাদং বৈ মৃত্যুমহং ব্রবীমি তথাপ্রমাদমৃতত্বং ব্রবীমি' । - মহাভারত । উদ্দোগপর্ব ।। সহজ বাংলায় 'পরমাদ' ( fault, carelessness etc) 'ঘটে যদি পরমাদ ' ইত্যাদি । 

বৈরিতা

' ন হি বেরেন বেরানি সম্মন্তীধ কুদাচনং  অবেরেন চ সম্মন্তি এস ধম্মো সনন্তন ।। - ধম্মপদ ।। সূত্র পিটক ।। 'ন হি বৈরেন বৈরানি শাম্যন্তীহ কদাচন  অবৈরেন চ শাম্যন্তি এ ধর্ম সনাতনঃ ।। - সংস্কৃত -- বৈরিতার( শত্রুতা ) দ্বারা বৈরিতাকে জয় করা যায় না । বৈরিতা অশান্ত করে । সাম্য আনে অবৈরিতা । শান্ত করে । এটাই সনাতন ধর্ম ।।

মূল্যবোধ

।। মধ্যবিত্ত মূল্য বোধ ।। অন্ধ্র এর কৃষক ক্ষেতে নজর লাগা থেকে বাঁচতে সানি র ছবি টানিয়েছেন । খবর বলছে, ভালো ফসল হয়েছে । উৎসাহ নাকি আরো কৃষকের মধ্যে ছড়িয়েছে । ভারতীয় সমাজ বড়ই বিচিত্র । দুর্গা, কালী, লক্ষ্মী মনসা, চন্ডী, শীতলা, সরস্বতীর পূজাও হয় , আর প্রতি মিনিটে কোথাও না কোথাও নারী নির্যাতন । নারীর প্রতি নারীর ( কোথাও শাশুড়ি -বৌমা, কোথাও নারী পাচিরকারি মহিলা ) নির্যাতন ও কম নয় । বড় বিচিত্র এ দেশ । তার মধ্যে বিচিত্র মধ্যবিত্ ত মূল্য বোধ !! শিক্ষিতের মধ্যে অশিক্ষিত কিছু কম নয় । কোথায় আর মুক্ত চিন্তা । স্বার্থে ঘা লাগলে সবাই একেকজন মৌলবাদী । বিচিত্র আমি, আপনি সবাই !! অপরকে আঘাত করে আসলে নিজেকেই ক্ষতিগ্রস্থ করছি , একথা কবে বুঝবো আমরা ? কোথাও নারী -পুরুষ, কোথাও হিন্দু -মুসলিম, কোথাও সিপিএম - বিজেপি, কোথাও বাঙালি -মারোয়াড়ি ইত্যাদি । মানুষ হিসেবে বাঁচব কবে ? ভালো মানুষ, খারাপ মানুষ এই দুটো বিভেদ থাকতে পারে মাত্র ।

আ ত্ম কথা ২

সংযোজনী :  সামান্য দুএকটি কথার জন্য পুনরায় Share করতে হল । সরকারী আমলাগিরি, তার ঠাটবাট এতোই ক্ষণস্থায়ী, আজ আছে কাল নেই, যে আকর্ষণ করে না আর । দেখেছি চাণক্য ই সঠিক  ' স্বদেশে পূজ্যতে রাজা  বিদ্বান সর্বত্র ..." কৃতজ্ঞতা স্বীকারে ভুলে গেছিলাম । তদানীন্তন সংগঠনের secretary হিসেবে শ্যামল আমার একটি প্রবন্ধ ছাপিয়েছিল । মনে রাখব । এছাড়া কিংশুক ( দুজনেই ), সুমিতাদি, দীপকদা এবং অসংখ্য বিভিন্ন স্তরের সহকর্মী উৎসাহ দিয়েছেন । সহকর্মী ছাড়া তাপস খুবই ছড়িয়েছে এই লেখকের নাম Facebook এ। কৃতজ্ঞ থাকব । এছাড়াও অনেক বন্ধুর ভালোবাসা আছে । স্বপনদা, শমীকদার নাম পুস্তকেই স্বীকার করা আছে । মনে রাখবেন বন্ধুরা " বিদ্বান সর্বত্র পূজ্যতে। " জ্ঞানচর্চার কেন্দ্রগুলি সারা দেশে রাজনৈতিক আখড়া হয়ে উঠলেও হীরক রাজার দেশের উদয়ন পণ্ডিতের কথা মনে রাখবেন । পড়াশুনা বন্ধ করবেন না । আসুন আমরা বিদ্বান না হতে পারি, শিক্ষা -প্রেমী তো হতে পারি নিশ্চয়ই ।